গুগল ট্রান্সলেট ইংলিশ টু বাংলা অনুবাদ করুন খুব সহজেই।

গুগল ট্রান্সলেট বর্তমান সময়ে গুগলের ব্যবহৃত সব সার্ভিস গুলোর মধ্যে বেশি ব্যবহৃত একটি সার্ভিস। আজকের আর্টিকেলে আমি আপনাদের গুগল ট্রান্সলেট এর ব্যবহার, সুবিধা এবং ফিচার সস্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করার চেষ্টা করবো।

আজকের আর্টিকেলের বিষয়বস্তু –

গুগল ট্রান্সলেট কি?

গুগল ট্রান্সলেট গুগলের ডিজিটাল প্রোডাক্ট গুলোর অন্যতম। আমাদের দেশে গুগল ট্রান্সলেট বাংলা টু ইংলিশ বা ইংলিশ টু বাংলা অনুবাদ করার জন্য বহুল ব্যবহৃত একটি অনলাইন সফটওয়্যার।

শুধু বাংলা নয়, Google Translate এর মাধ্যমে আপনি প্রায় ১০৬ টি ভাষায় আপনার পছন্দের ভাষাকে অনুবাদ করতে পারবেন। Google Translate আপনি আপনার কম্পিউটারে ব্রাউজারের মাধ্যমে বা আপনার এনড্রয়েড ফোনে অ্যাপের মাধ্যমে ও ব্যবহার করতে পারবেন।

গুগল ট্রান্সলেট এর মাধ্যমে সিঙ্গেল শব্দ থেকে শুরু করে যে কোন সম্পূর্ন প্যারাগ্রাফ পুরোটাই আপনি একবারেই অনুবাদ করে নিতে পারবেন।

অনলাইনে বা অফলাইনে আপনি অনেক ধরনের অনুবাদ করার অ্যাপ বা সফটওয়্যার পেয়ে যাবেন ঠিকই কিন্তু তার কোনটাই Google Translate এর সমতুল্য হবে না। কেননা বাজারে থাকা যে কোন কোম্পানির সফটওয়্যারের সাথে গুগলের সফটওয়্যারের কোন তুলনাই হয় না।

আর তা আপনি এই ট্রান্সলেটর সার্ভিসটি ব্যবহার করলেই বুঝতে পারবেন। এখানে আপনি কিবোর্ড টাইপ করে বা ভয়েস ইনপুটের মাধ্যমে উভয় ভাবেই আপনার কাঙ্খিত শব্দ বা অনুচ্ছেদ খুব সহজেই অনুবাদ করতে পারবেন।

গুগল ট্রান্সলেট ব্যবহারে সুবিধা কি?

আসলে Google Translate ব্যবহারের সুবিধা সমুহ বলে শেষ করা সম্ভব নয়। আপনি চাকরীজিবী হোন বা ফ্রিলান্সার বা স্টুডেন্ট সবার জন্যই এটি নিত্য প্রয়োজনীয় একটি সফটওয়্যার।

বিশেষ করে যারা মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি গুলোতে চাকরি করেন। তাদের প্রতিনিয়ত প্রচুর সংখ্যাক ফরেন ফাইল নিয়ে কাজ করতে হয়। আর প্রত্যেকটি ফাইলের ইংরিজি বা অন্য ভাষার ডকুমেন্ট গুলো পরিপূর্ন ভাবে অনুবাদ করা সম্ভব হয়ে ওঠে না। আর এক্ষেত্রে Google Translate অগ্রনী ভূমিকা পালন করে।

আমাদের দেশে বা ইন্ডিয়াতে প্রচুর সংখ্যাক ব্লগার রয়েছেন যারা ইংরেজিতে ভালো না হবার পরও শুধু মাত্র গুগল ট্রান্সলেট ব্যবহার করে ইংরেজিতে অনুবাদের মাধ্যমে তাদের ব্লগ বা ওয়েবসাইটের জন্য আর্টিকেল লিখছেন।

অর্থাৎ আপনি যদি ইংরেজিতে কাচা হোন তাহলে যে কোন বাংলা বাক্য গুগল ট্রান্সলেট ব্যবহার করে খুব সহজেই ইংরেজিতে অনুবাদ করে ফেলতে পারবেন।

তাছাড়া আপনি যদি স্টুডেন্ট হোন তাহেলে আমি আপনাকে সাজেস্ট করবো অনুবাদের জন্য গুগল ট্রান্সলেট অ্যাপ করতে। কারন এখানে আপনারা প্রত্যেকটি শব্দের প্রচুর সংখ্যাক প্রতিশব্দ এর পাশাপাশি Noun, Pronoun, Verb এর সাথে উদাহরন স্বরুপ বাক্য ও তৈরি করে দিবে।

গুগল ট্রান্সলেট এর ফিচার সমুহ –

এখন আপনাদের মনে প্রশ্ন আসতে পারে। অনলাইনে এত এত অনুবাদ করা সফটওয়্যার থাকতে আমরা কেন গুগল ট্রান্সলেট ব্যবহার করবো?

তাহলে চলুন গুগল ট্রান্সলেট এর কিছু উল্লেখযোগ্য ফিচার সমুহ দেখে নেওয়া যাক –

  • এর মাধ্যমে আপনি খুব সহজেই যে কোন ভাষাকে আপনার কাঙ্খিত যে কোন ভাষায় অনুবাদ করতে পারবেন।
  • কেবল মাত্র একটি শব্দের অনুবাদ নয়। এখানে আপনি চাইলে 5000 ওয়ার্ড পর্যন্ত যে কোন অনুচ্ছেদ এক বারে অনুবাদ করতে পারবেন।
  • শুধু তাই নয়, আপনি আপনার পুরো ডকুমেন্ট ফাইল আপলোড করেও তা সম্পূর্ন মাত্র এক ক্লিকেই অনুবাদ করে নিতে পারবেন। এখানে আপনি .doc, .docx, .odf, .pdf, .ppt, .pptx, .ps, .rtf, .txt, .xls, or .xlsx ফাইল সমুহের ডকুমেন্ট আপলোড করতে পারবেন।
  • ব্রাউজারে গুগল ট্রান্সলেট এর এক্সটেনশন ব্যবহার করে যে কোন ওয়েবপেজ ট্রান্সলেট করতে পারবেন। অর্থাৎ কোন ওয়েবসাইটের আর্টিকেল আপনার পড়তে অসুবিধা হলে তা খুব সহজেই আপনার পছন্দের ভাষায় পুরো ওয়েবপেজ ট্রান্সলেট করে নিতে পারবেন।
  • আপনি এখানে ভয়েজ ইনপুট ব্যবহার করে ও যে কোন ভাষায় লিখতে পারবেন। যেমন আমাদের অনেকে হিন্দি এবং উর্দূ লিখতে না পারলে ও তা বলতে পারি। আর তাদের জন্য ভয়েস ইনপুটের মাধ্যমে হিন্দী বা উর্দূ বা আরবী যে কোন ভাষায় আপনার পছন্দের বাক্য লিখতে পারবেন।
  • শব্দ অনুবাদের পাশাপাশি আপনি এখানে ফলাফল স্বরুপ প্রত্যেকটি শব্দের প্রচুর সংখ্যাক সমর্থক শব্দ, Noun, Pronoun, Verb এবং উদাহরন প্রদর্শন করা হয়। যা খুবই উপকারী একটি ফিচার।
  • গুগল ট্রান্সলেট অ্যাপ এর মাধ্যমে Handwriting, Camera ব্যবহার করেও আপনি Google Translate ব্যবহার করতে পারবেন।
  • তাছাড়া গুগল ট্রান্সলেট অ্যাপ ব্যবহার করে আপনি ভিনদেশী মানুষের সাথে তাদের ভাষায় Conversation করতে পারবেন।

কি কি উপায়ে গুগল ট্রান্সলেট ব্যবহার করা যায়?

মোটামুটি ৩ ভাবেGoogle Translate ব্যবহার করা যায়।

  • গুগল সার্চের মাধ্যমে
  • ওয়েবসাইটের মাধ্যমে
  • গুগল ট্রান্সলেট অ্যাপ এর মাধ্যমে

গুগল সার্চের মাধ্যমে অনুবাদ করার প্রক্রিয়া

আপনি চাইলে গুগলের ওয়েব সাইট ভিজিট না করেই খুব সহজেই গুগল সার্চের মাধ্যমে আপনার কাঙ্খিত ভাষা তথা বাংলা টু ইংলিশ অনুবাদ বা ইংলিশ টু বাংলা অনুবাদ করতে পারেন।

প্রথমে গুগল সার্চে গিয়ে “Google Translate” লিখে সার্চ করুন। অতপর আপনাকে একেবারে প্রথমেই গুগল ট্রান্সলেট এর সর্টকাট দেওয়া হবে।

গুগল সার্চ ট্রান্সলেট বাংলা টু ইংলিশ

উপরের চিত্রটি দেখুন। এখানে Enter text এবং Translation এর দুটি বক্স দেওয়া আছে।

Enter text এর উপরের দিকে Direct language অপশনটি সিলেক্ট করা রয়েছে। এখানে Direct language অপশনটির মানে হলো আপনি যে কোন ভাষা এখানে টাইপ করেন না কেন গুগল নিজের মতো করে সেই ভাষা ডিটেক্ট করে নিবে।

আবার Translation এর উপরে দেখুন English ভাষাটি সিলেক্ট করা আছে অর্থাৎ Enter text এ আপনি যে ভাষা টাইপ করবেন তা English অনুবাদ হয়ে যাবে।

তবে আপনি যদি অন্য কোন ভাষায় তা অনুবাদ করতে চান তাহলে ডান পাশে Translation বক্সে সেই ভাষাটি সিলেক্ট করে নিতে হবে।

উপরের নিয়মে আপনি কোন অ্যাপ বা ওয়েবসাইট ছাড়াই আপনার পছন্দের ভাষায় অনুবাদ করতে পারবেন।

ওয়েবসাইট ব্রাউজ করে অনুবাদ করার প্রক্রিয়া

গুগল ট্রান্সলেটের ওয়েবসাইট ব্রাউজ করে আপনি যে কেবল অনুবাদ করতে পারবেন তাই নয়। সেখানে আপনি আপনার কাঙ্খিত শব্দের প্রচুর সংখ্যাক সমর্থক শব্দ ও পেয়ে যাবেন।

আমরা যারা স্টুডেন্ট তাদের জন্য এটি খুবই ‍গুরুত্বপূর্ন একটি ফিচার। তাছাড়া কেবল সমর্থক শব্দই নয়। এখানে আপনি আপনার টাইপ বা ট্রান্সলেট করা শব্দ বা অনুচ্ছেদ স্পীকার অপশনের মাধ্যমে শুনতে ও পারবেন।

অর্থাৎ এখানে আপনি যা লিখবেন চাইলে তার উচ্চারন ও শুনতে পারবেন।

ওয়েবসাইট ব্রাউজ করে Google Translate ব্যবহার করার অন্যতম একটি সুবিধা হলো। আপনি চাইলে এখানে যে কোন ডকুমেন্ট ফাইল ও আপলোড করে পুরো ফাইলটি অনুবাদ করে নিতে পারবেন।

এখানে আপনি .doc, .docx, .odf, .pdf, .ppt, .pptx, .ps, .rtf, .txt, .xls, or .xlsx ফাইলের ডকুমেন্ট গুলো আপলোড করে তা অনুবাদ করে নিতে পারবেন।

গুগল ট্রান্সলেট ইংলিশ টু বাংলা

উপরের চিত্রটি দেখুন। এখানে আমি প্রত্যেকটি অপশন আলাদা আলাদা ভাবে মার্ক করেছি এবং নিচে এর বিস্তারিত বর্ননা দেওয়া হলো –

  • ১ম অপশনে আমি যে ভাষাটি অনুবাদ করতে চাচ্ছি সেটা সিলেক্ট করেছি। যেমন আমি ইংলিশ টু বাংলা অনুবাদ করবো তাই প্রথম অপশনে ইংলিশ সিলেক্ট করেছি।
  • ২ নম্বার অপশনে আমি আমার শব্দ বা বাক্যটি যে ভাষাতে অনুবাদ করতে চাই সেই ভাষা সিলেক্ট করেছি। যেমন আমি ইংলিশ টু বাংলা অনুবাদ করতে চাই তাই ২য় আপশনে বাংলা সিলেক্ট করেছি।
  • ৩য় আপশনটি হলো Enter text. এখানে আমি যে শব্দ বা বাক্যটি অনুবাদ করতে চাই অর্থাৎ ”My Name is Jahirul” সেটি লিখলাম।
  • ৪র্থ অপশনে আমার প্রদত্ত বাক্যের বাংলা অনুবাদ দেওয়া হয়েছে।

গুগল ট্রান্সলেট অ্যাপ ব্যবহার করে অনুবাদ।

অনুবাদ করার সবচেয়ে সহজ প্রক্রিয়া হলো গুগল ট্রান্সলেট অ্যাপ ব্যবহার করা। আপনাকে শুধু প্লে-স্টোর থেকে গুগল ট্রান্সলেট অ্যাপটি ডাউনলোড করে নিলেই কাজ হয়ে যাবে।

অনুবাদ করার প্রক্রিয়া সম্পূর্ন একই। গুগল ট্রান্সলেট অ্যাপ ব্যবহার করে আপনি খুব সহজেই যে কোন প্রকার লেখা যে কোন ভাষায় অনুবাদ করতে পারবেন।

গুগল ট্রান্সলেট অ্যাপ

উপরের চিত্রটিতে গুগল ট্রান্সলেট অ্যাপ এর একটি স্ক্রীনশট দেওয়া হয়েছে।

এখানে প্রথম অপশনে ক্যামেরার একটি অপশন দেখতে পাচ্ছেন। মনে করুন আপনি এমন কোথাও গিয়েছেন যেখানকার ভাষা আপনি ভালো করে জানেন না। কোন সমস্যা বা চিন্তার কোন কারন নেই।

আপনি শুধু গুগল ট্রান্সলেট অ্যাপ ওপেন করুন আর উক্ত ক্যামেরা অপশনে ক্লিক করে যে কোন লেখার উপর আপনার ফোনের ক্যামেরাটা ধরুন। গুগল সাথে সাথেই রিয়েল টাইমে আপনার উক্ত লেখা আপনার কাঙ্খিত ভাষাতে ট্রান্সেলেট করে দিবে।

২য় আপশনটি হলো Handwriting. আপনি যদি টাইপ করতে সাচ্ছন্দবোধ না করেন বা এমন কোন শব্দ অনুবাদ করতে চাচ্ছেন যেটার কিবোর্ড বা ফন্ট আপনার ফোনে নেই তাহলে ও কোন সমস্যা নেই।

আপনি Enter text অপশনে Direct Language সিলেক্ট করে Handwriting এর মাধ্যমে খুব সহজেই যে কোন ভাষাতে বা ফন্টে লিখতে পারবেন এবং তা অনুবাদ করতে পারবেন।

Conversation অপশনটি হলো সবচেয়ে বেশি মজাদার এবং উপকারী। মনে করুন আপনি বিদেশে কোথাও বেড়াতে গেলেন এবং সেখানের ভাষা খুব ভালো করে জানেন বা বোঝেন না।

তাহলে Conversation অপশনটির মাধ্যমে আপনি সেখানকার যে কোন ব্যাক্তির সাথে কথা বলতে পারবেন। এখানে গুগল তাৎক্ষণিক ভাবে আপনার ভাষাকে সেই অপরিচিত ভাষায় অনুবাদ সহ উচ্চারন করে দিবে। অর্থাৎ আপনার মনে হবে আপনি আপনার সামনে থাকা সেই ভিনদেশী অপরিচিত ব্যাক্তির সাথে তার ভাষাতে কথা বলছেন।

সর্বশেষ অপশনটি হলো Voice. এখানে আপনি টাইপ না করে কেবল ভয়েস কমান্ড দিয়ে আপনার কাঙ্খিত ভাষা টাইপ করে তা খুব সহজেই অনুবাদ করে নিতে পারবেন।

=শেষ কথা=

আশা করি আমার এই ক্ষুদ্র জ্ঞ্যান থেকে গুগল ট্রান্সলেট ইংলিশ টু বাংলা অনুবাদ করার প্রক্রিয়া সম্পর্কে কিছুটা বোঝাতে পেরেছি। অনুগ্রহ করে ভূল-ত্রুটি গুলো ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। এবং অবশ্যই আপনার মূল্যবান মতামত জানাতে ভূলবেন না।

পরবর্তী আর্টিকেল আসা পর্যন্ত ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন। ধন্যবাদ।

Share this

Leave a Comment